সামাজিক সংলাপ ছাড়া শ্রম আইন সংশোধন টেকসই হবে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত নতুন আইন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার পরিবর্তে উল্টো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা জরুরি হলেও দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতা উপেক্ষা করে আইন চাপিয়ে দিলে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজধানীর গুলশানে গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানান তারা।
বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘পাঁচ হাজার শ্রমিকের কারখানায় মাত্র ২০ জন মিলে যদি ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে, তা পুরো শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করবে না। আবার সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন করার সুযোগ থাকলে খুব কমসংখ্যক সদস্যও একাধিক ইউনিয়ন তৈরি করতে পারবে। এতে শিল্পে বিভাজন ও অস্থিতিশীলতা বাড়বে। ফলে ক্রয়াদেশ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হবে।’
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যখন মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই এ প্রস্তাবের বিপক্ষে, তখন কার স্বার্থে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’
এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, ‘বিদ্যমান শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, ফলে বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত এ আইনের বাইরে রয়ে যাচ্ছে।’
বিইএফ সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আইন সংশোধনে শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষের সঙ্গে যথাযথ সামাজিক সংলাপ হয়নি।’ একাধিক দুর্বল সংগঠন তৈরির চেয়ে একটি বা দুটি কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক অধিকার রক্ষায় বেশি ফলপ্রসূ হবে বলেও মনে করেন তিনি।